পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড কি ?

পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড কি ? 

বিশ্বব্যাপী যে কোন মার্কেটপ্লেস এবং ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করার একটি চমৎকার মাধ্যম হল এই পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড । এটি একটি পেমেন্ট গেটওয়ে, যার মাধ্যমে আপনি টাকা গ্রহণ এবং উত্তোলন করতে পারবেন। এই পেয়োনিয়ার এর মাধ্যমে আপনি যে কোন দেশের মুদ্রা (currency) গ্রহণ করতে পারবেন এবং বাংলাদেশের ব্যংক অথবা এটিএম বুথ থেকে বাংলাদেশি টাকায় সেটা উত্তোলন করতে পারবেন। 

পেয়োনিয়ার কোম্পানিটি একটি চমৎকার মাসটারকার্ড এর সুবিধা দিচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। এই কার্ড দিয়ে আপনি এটিএম বুথ থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। অপরদিকে পেয়োনিয়ার একাউন্ট থেকে বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক এ টাকা আসতে সময় লাগে তিন থেকে সাত দিনের মত। 

কীভাবে পেয়োনিয়ার একাউন্ট তৈরি করবেন 

বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই আপনি একটি পেয়োনিয়ার একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটিপ্লেস থেকে পেয়োনিয়ারের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে তার জন্য আপনার কিছু ডকুমেন্ট অর্থাৎ কাগজপত্র থাকা লাগবে। আসুন জেনে নেই পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড একাউন্ট তৈরি করতে আপনার কি কি কাগজ লাগতে পারে ? 

ভ্যালিড আইডিঃ পাসপোর্ট, ভোটার আইডি অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর যে কোন একটি হলেই চলবে। 

একটি ইমেইল আইডিঃ ইমেইলটি অবশ্যই ভ্যারিফাইড এবং নিরাপদ হতে হবে। কেননা এর মাধ্যমে চাইলেই আপনার পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড একাউন্ট একসেস করা যাবে। 

ব্যাংক একাউন্টঃ আপনার একটি ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। যে কোন ব্যাংকে একাউন্ট থাকলেই হবে। 

মোবাইলঃ আপনার নিজস্ব একটি মোবাইল নাম্বার থাকতে হবে। 

পেয়োনিয়ারের ওয়েবসাইটে যান এবং সাইন-আপ এ ক্লিক করুন… 

 

পরবর্তীতে সঠিক তথ্য অনুযায়ী ফর্মটি পূরণ করুন… খেয়াল রাখবেন তথ্যগুলো যেন অবশ্যই আপনার আইডি কার্ড অনুযায়ী হয়। তা না হলে পরবর্তীতে এই অ্যাকাউন্টটি আপনি ভ্যারিফিকেশন করতে পারবেন না। 

 

পরবর্তী ধাপে পেয়োনিয়ার আপনার কাছ থেকে ঠিকানা চাইবে। অবশ্যই সঠিক ঠিকানা দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। মনে রাখবেন  আপনার পেয়োনিয়ার কার্ডটি কিন্তু অবশ্যই এই ঠিকানাতেই আসবে। 

 

এরপর আপনার মোবাইল নাম্বারটি দিন। 

 

পরবর্তী ধাপে আপনার একাউন্টের পাসওয়ার্ড দিন এবং পাশাপাশি একটি সিকিউরিটি প্রশ্ন সেট করে দিন। মনে রাখবেন যে কোন সময় পেয়োনিয়ার আপনাকে এই সিকিউরিটি প্রশ্নটি করতে পারে এবং আপনাকে তখন সঠিক উত্তরটি প্রদান করতে হবে। তাই এমন একটি প্রশ্ন এবং উত্তর সিলেক্ট করে রাখবেন যেটা আপনি সহজে ভুলে যাবেন না। 

এখন অপেক্ষার পালা, কেননা আপনার কাজগুলো আপনি সঠিক ভাবে করে ফেলেছেন। পেয়োনিয়ার টিম এখন আপনার একাউন্ট রিভিউ করবে অর্থাৎ আপনার তথ্যগুলো যাচাই বাচাই করে নিবে এবং আশাকরি কিছুদিনের মধ্যেই আপনার একাউন্টটি তৈরি হয়ে যাবে। 

রিভিউ শেষ হওয়ার পর আপনার একাউন্ট যখন তৈরি হয়ে যাবে তখন আপনার মেইলে একটি কনফার্মেশন মেইল আসবে।

 

আগে সেট করা পাসওয়ার্ড মনে আছে তো ? সেই পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার একাউন্টে লগইন করে নিন। এখন আপনাকে আরো দুটি সিকিউরিটি প্রশ্ন এবং উত্তর সেট করে দিতে হবে। এই প্রশ্নগুলো পেয়োনিয়ার আপনাকে যে কোন সময়ে করতে পারে এবং আপনাকে তার সঠিক উত্তর দিতে হবে। 

 

একাউন্ট তো তৈরি এখন পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড কীভাবে পাবেন 

আপনি কিন্তু এখন এই একাউন্ট দিয়ে যে কোন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন। পেয়োনিয়ার একাউন্টের সাথে আপনার নিজের ব্যাংক একাউন্টটির সংযোগ করে নিলে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে সেই টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে জমা করতে পারবেন। 

ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করার জন্য আপনার ব্যালেন্স নুন্যতম ৫০ ডলার হতে হবে, তা না হলে আপনি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। 

ইতোপূর্বে একাউন্ট খুলার সাথে সাথেই আপনি পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য আবেদন করতে পারতেন এবং পেওনিয়ার আপনার ঠিকানায় মাস্টারকার্ডটি পাঠিয়ে দিত। কিন্তু এই সুযোগের ভুল ব্যবহারের কারণে বর্তমানে কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে পেওনিয়ার বেশ কড়াকড়ি করেছে। কেননা, পূর্বে অনেকেই আছে যারা শুধুমাত্র ফ্যাশন করার জন্য এবং সবাইকে দেখানোর জন্য পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড অর্ডার করত। 

বর্তমানে আপনার একাউন্টের মাধ্যমে নুন্যতম ১০০ ডলার পেমেন্ট গ্রহণ করতে হবে, তাহলেই কেবল আপনি পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে পেওনিয়ার আপনার জন্য নিয়ে এসেছে এক আকর্ষণীয় অফার! আপনার একাউন্টে যখনই ১০০ ডলার পেমেন্ট গ্রহণ করা হবে। তখন সাথে সাথেই আপনি পেয়ে যাবেন ২৫ ডলার! 

পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডে ২৫ ডলার বোনাস পাওয়ার উপায় ! 

একটু আগেই বলছিলাম ২৫ ডলার বোনাসের কথা, আসুন তবে জেনে নেয়া যাক ঠিক কীভাবে আপনি এই ২৫ ডলার বোনাস পেতে পারেন। 

আদতে, আপনাকে আলাদা করে তেমন কোন কাজই করতে হচ্ছে না এখানে। সুতারাং এই ২৫ ডলার আপনি একদম ফ্রিতেই পাচ্ছেন বলে ধরে নিতে পারেন। কেবল আমাদের এই আর্টিকেলে দেয়া লিংক থেকে ক্লিক করে যখন আপনি পেওনিয়ার ওয়েবসাইটে যাবেন তখনই ১০০ ডলার পেমেন্ট রিসিভ করার পর আপনি ২৫ ডলার ফ্রি পেয়ে যাবেন। 

মনে রাখবেন, আপনি কিন্তু একাউন্ট খোলার সাথে সাথেই এই বোনাস পাবেন না বরং কেবলমাত্র যে কোন মার্কেটপ্লেস থেকে ১০০ ডলার রিসিভ করলেই সাথে সাথেই আপনার একাউন্টে পঁচিশ ডলার জমা হয়ে যাবে। আর এই পঁচিশ ডলার আপনি যে কোন সময়েই বিনা শর্তে উত্তোলন করতে পারবেন। 

যে কাজগুলো করলে আপনার পেয়োনিয়ার একাউন্ট ব্লক হয়ে যেতে পারেঃ

>> ভুয়া কোন আইডি কার্ড দিয়ে যদি আপনার পেয়োনিয়ার একাউন্টটি তৈরি করেন 

>> অন্য কারো আইডির নাম পরিবর্তন করে যদি একাউন্ট তৈরি করেন 

>> আপনার যে ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে যেমন জন্ম সাল, তারিখ, বাবা এবং মায়ের নাম এগুলো যদি কোন কারণে পরিবর্তন করেন তাহলে আপনার একাউন্টটি বাতিল হয়ে যাবে

>> অন্য কারো একাউন্ট থেকে যদি আপনি মাস্টার কার্ড পাওয়ার জন্য ১০০ ডলার লোড করে নেন তাহলে আপনার একাউন্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে

>> অন্য কারো ব্যাংক একাউন্ট যদি নিজের পেওনিয়ার একাউন্টের সাথে যোগ করে দেয়ার চেষ্টা করেন তাহলে সম্ভাবনা আছে আপনার একাউন্টটি ব্লক হয়ে যাওয়ার 

ফাইভার কি ফাইভার মার্কেটপ্লেস কিভাবে কাজ করে ?

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, পেওনিয়ার কোম্পানির উদ্দেশ্য হল আপনি যাতে নিরাপদে দেশের বাইরে থেকে পেমেন্ট নিজের দেশে নিয়ে আসতে পারেন।

আর তাই আপনি যদি দেশের কারো একাউন্ট থেকে ডলার লোড করতে যান তাহলে আপনি পেওনিয়ার রুলস ব্রেক করে ফেলবেন। আর ফলাফল স্বরূপ আপনাকে প্রিয় পেওনিয়ার একাউন্টটি হারাতে হতে পারে। আর কখনই পেওনিয়ার ডলার কেনা বেচা করবেন না এতে করে আপনার একাউন্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তীব্র।

নতুন ইস্যু করা পেয়োনিয়ার কার্ড কীভাবে একটিভ করবেন 

যখন আপনার একাউন্টে একশ ডলার পেমেন্ট গ্রহণ হয়ে যাবে তখন আপনি মাস্টার কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার ১৫ দিনের মধ্যেই আপনার বাসায় পেওনিয়ার কার্ডটি পৌঁছে যাওয়ার কথা। কোন কারণ বশত যদি আপনার বাসায় পেয়োনিয়ার কার্ডটি না আসে তাহলে আপনার ডাকঘর অর্থাৎ পোস্ট অফিসে খোঁজ নিন। 

 

আসুন তাহলে জেনে নেই পেয়োনিয়ার কার্ডটি পাওয়ার পর আপনি সেটা কীভাবে একটিভ করবেন? 

পেয়োনিয়ার কার্ড একটি ইনভেলপের মাধ্যমে আসবে, পাওয়ার পর সাবধানতার সাথে ইনভেলপটি ছিঁড়ে ফেলুন। এরপর অনলাইনে পেয়োনিয়ার একাউন্টের setting অপশনে যান এবং Payoneer Card অপশনে ক্লিক করে নিন। এরপর আপনার কার্ডটি একটিভ করার জন্য Activate বাটনে ক্লিক করে নিন। এখানে ক্লিক করার পর আপনার পেওনিয়ার মাস্টার কার্ডের পুরো নাম্বারটি প্রদান করুন এরপর আবারো Activate বাটনে ক্লিক করে নিন। 

 

সাথে সাথেই আপনি একটি ফিরতি ইমেইল পাবেন যে আপনার কার্ডটি একটিভ হয়ে গেছে। এরপর থেকে আপনার পেয়োনিয়ার একাউন্টে ডলার থাকলে আপনি যে কোন এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। 

পেয়োনিয়ার দিয়ে কি পেপাল একাউন্ট ভ্যারিফাই করা যাবে 

অতীতে একসময় এমন একটা ব্যবস্থা ছিল যে আপনি চাইলেই পেওনিয়ারের ভার্চুয়াল ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে পেপাল একাউন্টটিও ভ্যারিফাই করে নিতে পারতেন। তবে বর্তমানে এটি আর সম্ভব হচ্ছে না, কেননা পেপাল এখন ভ্যারিফাই করার জন্য নতুন একটি পন্থা অবলম্বন করে থাকে।

আর সেটি হল, পেপাল প্রথমে দুই সেন্টের মত আপনার একাউন্টে পাঠাবে এবং কিছুক্ষন পর আবার সেই দুই সেন্ট ফেরত নিয়ে যাবে। যদি সঠিকভাবে এই লেনদেন হয়ে যায় তাহলেই পেপাল বুঝতে পারবে আপনার ব্যাংক জনিত কোন সমস্যা নেই। 



এখন যে প্রশ্নটি আপনার মনে আসতে পারে, তাহলে পেয়োনিয়ায়রের ভার্চুয়াল ব্যাংক একাউন্ট দিয়ে কেন পেপাল ভ্যারিফাই করা যাবে না? আদতে পেওনিয়ার এই ব্যাংক একাউন্টে শুধুমাত্র পেমেন্ট রিসিভ করা যায়, এই ব্যাংক একাউন্ট থেকে কখনো পে করা যায় না।

আর তাই পেপাল যখন আপনার একাউন্টে দুই সেন্ট পাঠাবে তখন আপনার একাউন্টে সেটা ঢুকলেও পরবর্তীতে যখন আবার সেটা ফেরত নিতে যাবে তখন সেই এমাউন্টটি আর আপনার একাউন্ট থেকে পেপালে যাবে না। যার ফলে পেপাল বুঝতে পারবে আপনার ব্যাংক একাউন্ট জনিত কোন একটি সমস্যা রয়েছে। 

পেওনিয়ারের মাস্টারকার্ড দিয়ে আপনি যে কাজগুলো করতে পারবেন

>> আপনি যে কোন অনলাইন শপ থেকে শপিং করতে পারবেন 

>> যে কোন মার্কেটপ্লেস থেকে পেমেন্ট গ্রহণ এবং পেমেন্ট প্রদান করতে পারবেন

>> ডোমেইন এবং হোস্টিং সহ আরো অন্যান্য অনলাইন সেবা ক্রয় করতে পারবেন 

পেয়োনিয়ার কার্ড দিয়ে কি ফেসবুক বুস্ট করা যাবে 

ইতোপূর্বে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই সুবিধাটি দিয়েছিল, তখন যে কেউ চাইলে পেয়োনিয়ার কার্ড দিয়ে ফেসবুক বুস্ট করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে ফেসবুক আর পেমেন্ট মেথড হিসেবে পেয়োনিয়ারের মাস্টারকার্ডটি গ্রহণ করছে না। আর তাই আপনি চাইলেও পেয়োনিয়ার কার্ড দিয়ে ফেসবুকে বুস্ট করতে পারবেন না। 

তবে বর্তমানে বাংলাদেশে ইস্টার্ন ব্যাংক এর একুয়া প্রিপেইড কার্ড এবং লাইফস্টাইল কার্ড দিয়ে ফেসবুকে বুস্ট করতে পারবেন। এছাড়াও ব্যাংক এশিয়ার স্বাধীন কার্ড নামক একটি কার্ড দিয়েও আপনি ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রদান করতে পারবেন। বিজ্ঞাপন প্রদানের পাশাপাশি আপনি এই কার্ড দিয়ে ডোমেইন, হোস্টিং, অনলাইন শপিং সহ নানা ধরনের অনলাইন সেবা ক্রয় করতে পারবেন। 

সতর্কতাঃ 

আপনার পেয়োনিয়ার মাস্টার কার্ডে যদি ডলার না থাকে তাহলে কখনই এটিএমন বুথে কার্ড ঢুকাবেন না, এতে করে আপনার কার্ডটি এটিএমবুথে আটকে যেতে পারে এবং আপনি পড়তে পারেন বাড়তি বিড়ম্বনায়। 

যে কোন ব্যাংকের মাস্টারকার্ড লেখা এটিএমন বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করা গেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক এর এটিএম বুথ থেকে পেওনিয়ার কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন করা ভালো। 

Write a comment